হাওজা নিউজ এজেন্সি: এই সাক্ষাতে শেখ মুহাম্মদ বিন আবদুল কারীম আল-ঈসা ইসলামী মাদ্রাসাগুলোর ইলমি ও শিক্ষাগত অগ্রগতির প্রশংসা করেন। তিনি সম্মেলনে সক্রিয় অংশগ্রহণের জন্য আয়াতুল্লাহ আ’রাফিকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, “ইসলামী বিশ্ব আজ বিভেদের নয়, বরং ঐক্য ও নিকটত্বের প্রয়োজন অনুভব করছে।”
রাবিতা মহাসচিব শিয়া আলেমদের ইলমি ও শিক্ষাগত অবদানের কথা উল্লেখ করে বলেন, তিনি শহীদ সাদর ও শহীদ মুতাহহারী’র মতো শিয়া আলেমদের জ্ঞান থেকে উপকৃত হয়েছেন। শিয়াদের ফিকাহ ও উসুল বিষয়ক দক্ষতাকে তিনি ইসলামী বিশ্বের জন্য এক অমূল্য সম্পদ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। একইসঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, “দুর্ভাগ্যবশত আহলে সুন্নাহ ও শিয়া উভয় সম্প্রদায়েই উগ্রবাদী ধারা সক্রিয়। এর মোকাবিলার একমাত্র পথ হলো মধ্যপন্থী ইসলামে প্রত্যাবর্তন।”
অন্যদিকে, আয়াতুল্লাহ আ’রাফি ইসলামী মাদ্রাসাগুলোর বর্তমান অবস্থা, সাফল্য ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ইরানসহ বিভিন্ন দেশের মাদ্রাসাগুলোর বৈচিত্র্যময় শিক্ষাবিভাগ ও গবেষণাধর্মী কার্যক্রম সমগ্র মুসলিম উম্মাহর জন্য অপরিহার্য সম্পদ।
তিনি আরও বলেন, “বর্তমান ইসলামী বিশ্বে দুটি ধারা বিদ্যমান—একটি কঠোর, প্রতিগামী ও জড়বুদ্ধিসম্পন্ন ধারা; অন্যটি পশ্চিমা প্রভাবিত, ভীত ও অগভীর ধারা। অথচ মাদ্রাসাগুলোর প্রকৃত দিকনির্দেশনা হলো প্রাচীন ও সুসংগঠিত ইসলামী ঐতিহ্যের ভিত্তিতে জ্ঞান ও প্রজ্ঞাসমৃদ্ধ এক প্রগতিশীল পথ অনুসরণ করা।”
ইরান-সৌদি সম্পর্কের গুরুত্ব
আয়াতুল্লাহ আ’রাফি ইরান ও সৌদি আরবকে ইসলামী বিশ্বের দুটি গুরুত্বপূর্ণ ও প্রভাবশালী দেশ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, “যদিও মতপার্থক্য রয়েছে, তবুও দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়ন ইসলামী উম্মাহর ঐক্যের জন্য অপরিহার্য। জ্ঞান, দার্শনিক, নৈতিক ও মানবিক ক্ষেত্রে উভয় দেশের সহযোগিতা মুসলিম বিশ্বের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে।”
আপনার কমেন্ট